বিদেশি ভিসা আবেদনের জন্য এনআইডি কার্ডের প্রয়োজনীয়তা ২০২৫

 বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেশ ভ্রমণের জন্য ভিসা আবেদন করতে গেলে জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি কার্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এটি আপনার পরিচয়, নাগরিকত্ব এবং ঠিকানা যাচাইয়ে সাহায্য করে। যদিও প্রধান দলিল পাসপোর্ট, কিন্তু অনেক দেশের ভিসা আবেদনে এনআইডি কার্ডের কপি বা অনলাইন ভেরিফাইড কপি জমা দিতে হয়। বিশেষ করে ভারত, শেনজেন, ইউএস, ইউকে ভিসার মতো জনপ্রিয় গন্তব্যে এটি সাপোর্টিং ডকুমেন্ট হিসেবে কাজ করে।

Photo by Ekaterina Belinskaya

এই আর্টিকেলে আমরা বিভিন্ন দেশের ভিসা আবেদনে এনআইডি কার্ডের ভূমিকা, কেন দরকার, কীভাবে প্রস্তুত করবেন এবং কিছু টিপস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। তথ্যগুলো সংশ্লিষ্ট দূতাবাস এবং ভিসা সেন্টারের সর্বশেষ গাইডলাইন অনুসারে (২০২৫)। নিয়ম পরিবর্তন হতে পারে, তাই আবেদনের আগে অফিসিয়াল সাইট চেক করুন।

এনআইডি কার্ড কেন ভিসা আবেদনে দরকার?

  • পরিচয় যাচাই: নাম, জন্মতারিখ, পিতা-মাতার নাম এবং ঠিকানা পাসপোর্টের সাথে মিলিয়ে দেখা হয়।
  • নাগরিকত্ব প্রমাণ: বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশি বা ডুয়েল সিটিজেনশিপের ক্ষেত্রে।
  • সাপোর্টিং ডকুমেন্ট: পাসপোর্টের পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রমাণ হিসেবে।
  • অনলাইন ভেরিফিকেশন: কিছু দেশে এনআইডি নম্বর দিয়ে অনলাইনে চেক করা হয়।

স্মার্ট এনআইডি কার্ডের সামনে এবং পিছনে তথ্য দেখুন


বিভিন্ন দেশের ভিসায় এনআইডি প্রয়োজনীয়তা

১. ভারতীয় ভিসা বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ভিসা আবেদনে এনআইডি কার্ডের কপি (উভয় পাশ) অবশ্যই জমা দিতে হয়। বিশেষ করে ট্যুরিস্ট, মেডিকেল বা বিজনেস ভিসায়। বিবাহিতদের ক্ষেত্রে স্পাউসের এনআইডি কপি লাগতে পারে। অনলাইন আবেদনের পর IVAC সেন্টারে জমা দিন।

২. শেনজেন ভিসা (ইউরোপীয় দেশসমূহ) জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি ইত্যাদি শেনজেন ভিসায় এনআইডি কার্ডের কপি সাপোর্টিং ডকুমেন্ট হিসেবে চাওয়া হয়। বিশেষ করে VFS গ্লোবাল সেন্টারে আবেদন করলে জন্ম সনদ বা এনআইডি দিয়ে পরিচয় যাচাই করা হয়। ট্রান্সলেটেড কপি লাগতে পারে।


৩. যুক্তরাষ্ট্র (ইউএস) ভিসা DS-160 ফরমে এনআইডি নম্বর উল্লেখ করতে হয় না, কিন্তু ইন্টারভিউতে পরিচয় প্রমাণ হিসেবে এনআইডি কপি নিয়ে যাওয়া ভালো। প্রবাসী বাংলাদেশিদের NVR বা অন্যান্য সার্ভিসে এনআইডি লাগে।

৪. যুক্তরাজ্য (ইউকে) ভিসা VFS সেন্টারে আবেদনে এনআইডি কপি চাওয়া হতে পারে, বিশেষ করে ট্যুরিস্ট বা স্টুডেন্ট ভিসায়।

৫. অন্যান্য দেশ (কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া ইত্যাদি) সাধারণত পাসপোর্ট প্রধান, কিন্তু পরিচয় যাচাইয়ে এনআইডি কপি সহায়ক। মেডিকেল বা স্টুডেন্ট ভিসায় প্রায়ই লাগে।

ভিসা আবেদনে এনআইডি প্রস্তুতির টিপস

  • সত্যায়িত কপি: এনআইডির উভয় পাশের ফটোকপি সত্যায়িত করুন (গেজেটেড অফিসার দিয়ে)।
  • অনলাইন কপি: services.nidw.gov.bd থেকে ডাউনলোডকৃত পিডিএফ প্রিন্ট করে ব্যবহার করুন—এটি বৈধ।
  • ইংরেজি ট্রান্সলেশন: প্রয়োজনে এনআইডির তথ্য ইংরেজিতে ট্রান্সলেট করুন।
  • ভুল থাকলে সংশোধন: ভিসা আবেদনের আগে এনআইডি সংশোধন করুন, নইলে রিজেক্ট হতে পারে।
  • প্রবাসীদের জন্য: বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে এনআইডি আবেদন করতে পারেন।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

  • এনআইডি ছাড়া পাসপোর্ট করা যায় না, তাই ভিসার আগে এনআইডি সঠিক রাখুন।
  • দালাল এড়িয়ে অফিসিয়াল চ্যানেল ব্যবহার করুন।
  • সর্বশেষ তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা VFS/IVAC সাইট চেক করুন।

এনআইডি কার্ড সঠিক থাকলে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়। বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন পূরণে এটি একটি মূল চাবিকাঠি! কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করুন।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url