এনআইডি কার্ডে স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করার সহজ নিয়ম ২০২৫
বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি কার্ডে দুই ধরনের ঠিকানা থাকে: বর্তমান ঠিকানা এবং স্থায়ী ঠিকানা। স্থায়ী ঠিকানা সাধারণত জন্মস্থান বা পারিবারিক ঠিকানা হিসেবে বিবেচিত হয়, যা নাগরিকত্ব প্রমাণ, উত্তরাধিকার, সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশন এবং অনেক সরকারি সুবিধায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অনেকে চাকরি, বিবাহ বা অন্য কারণে স্থায়ীভাবে অন্য এলাকায় চলে যান এবং স্থায়ী ঠিকানা আপডেট করতে চান।
স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করলে প্রায়শই ভোটার এলাকাও পরিবর্তন হয়ে যায়, কারণ এটি ভোটার তালিকার সাথে যুক্ত। এই প্রক্রিয়া শুধু বানান ভুল সংশোধনের মতো সহজ নয়—এটি ভোটার এলাকা স্থানান্তরের মতোই জটিল এবং অফলাইনে করতে হয়। বর্তমানে (২০২৫) অনলাইনে শুধু বর্তমান ঠিকানার ছোটখাটো সংশোধন (যেমন হোল্ডিং নম্বর, পোস্ট কোড) করা যায়, কিন্তু স্থায়ী ঠিকানা বা ভোটার এলাকা পরিবর্তনের জন্য অফিসে যেতে হবে।
এই আর্টিকেলে ধাপে ধাপে বিস্তারিত জানাব কীভাবে স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করবেন, কী কী দলিল লাগবে এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা। তথ্যগুলো বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ গাইডলাইন অনুসারে।
এনআইডি কার্ডে ঠিকানা কেমন দেখায়?
স্মার্ট এনআইডি কার্ডের পিছনে বর্তমান এবং স্থায়ী ঠিকানা আলাদাভাবে উল্লেখ থাকে।
স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন কেন প্রয়োজন?
- নতুন এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করলে।
- বিবাহের কারণে বা পারিবারিক কারণে।
- ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য।
- সম্পত্তি, উত্তরাধিকার বা সরকারি সুবিধা পাওয়ার জন্য সঠিক ঠিকানা রাখতে।
প্রয়োজনীয় দলিলাদি
স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য নিম্নলিখিত দলিলগুলোর সত্যায়িত কপি প্রস্তুত রাখুন:
- বর্তমান এনআইডি কার্ডের ফটোকপি।
- নতুন স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণ: বিদ্যুৎ/গ্যাস/পানি বিল, কর আদায় রশিদ, বাড়ি ভাড়ার চুক্তিপত্র।
- নতুন এলাকার নাগরিকত্ব সনদপত্র (ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা থেকে)।
- নতুন এলাকার চেয়ারম্যান/কাউন্সিলরের প্রত্যয়নপত্র (ছবিযুক্ত হলে ভালো)।
- পরিবারের অন্য সদস্যের এনআইডি কপি (যদি তারা নতুন এলাকায় ভোটার হন)।
- ফরম-২ পূরণকৃত।
ধাপে ধাপে পরিবর্তন প্রক্রিয়া
১. ফরম-২ সংগ্রহ করুন নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট (services.nidw.gov.bd) বা উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিস থেকে ফরম-২ ডাউনলোড/সংগ্রহ করুন। এটি ভোটার স্থানান্তর এবং স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য ব্যবহৃত হয়।
২. ফরম পূরণ করুন
- পুরনো ও নতুন স্থায়ী ঠিকানা সঠিকভাবে লিখুন।
- পরিবর্তনের কারণ উল্লেখ করুন (যেমন স্থায়ী বসবাস)।
- নতুন এলাকার জনপ্রতিনিধির স্বাক্ষর ও সিল নিন।
৩. আবেদন জমা দিন
- নতুন স্থায়ী ঠিকানার উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে স্বশরীরে গিয়ে দলিলসহ ফরম জমা দিন।
- প্রাপ্তি স্বীকারপত্র নিন।
৪. প্রক্রিয়াকরণ
- যাচাই-বাছাইয়ের পর ১৫-৪৫ দিনের মধ্যে অনুমোদন হয়।
- অনুমোদিত হলে স্থায়ী ঠিকানা এবং ভোটার এলাকা আপডেট হবে। প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ফ্রি।
৫. নতুন কার্ড পাওয়া (যদি চান)
- স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তনের কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন কার্ড দেওয়া হয় না।
- নতুন ঠিকানাসহ কার্ড চাইলে services.nidw.gov.bd থেকে রি-ইস্যু আবেদন করুন (ফি ২৩০-৩৪৫ টাকা, জরুরি/সাধারণ অনুসারে)।
গুরুত্বপূর্ণ টিপস ও সতর্কতা
- শুধু বানান ভুল বা হোল্ডিং নম্বর সংশোধন হলে অনলাইনে (প্রোফাইলে লগইন করে) করা যায়।
- স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন ভোটার এলাকা প্রভাবিত করে, তাই সতর্কতার সাথে করুন।
- দালাল এড়িয়ে নিজে অফিসে যান—প্রক্রিয়া ফ্রি।
- সমস্যা হলে হেল্পলাইন ১০৫-এ কল করুন বা নিকটস্থ নির্বাচন অফিসে যান।
- সর্বশেষ নিয়মের জন্য services.nidw.gov.bd বা ecs.gov.bd চেক করুন।
স্থায়ী ঠিকানা সঠিক রাখলে অনেক জটিলতা এড়ানো যায়। প্রয়োজনে দেরি না করে আজই শুরু করুন! কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানান।
