ভোটার এলাকা স্থানান্তর করার সহজ ও বিস্তারিত নিয়ম ২০২৫ (ফরম ১৩)
বাংলাদেশে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) শুধু ভোটার হিসেবে পরিচয়ই দেয় না, এটি নাগরিকত্বের প্রমাণ এবং বিভিন্ন সেবা গ্রহণের জন্য অপরিহার্য। অনেক সময় চাকরি, বিয়ে, ব্যবসা বা অন্য কারণে স্থায়ীভাবে অন্য এলাকায় চলে যেতে হয়। তখন পুরনো ভোটার এলাকা থেকে নতুন এলাকায় ভোটারশিপ স্থানান্তর করতে হয়। এতে নতুন এলাকায় স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়া, সরকারি সুবিধা পাওয়া এবং ঠিকানা আপডেট রাখা সহজ হয়।
ভোটার এলাকা স্থানান্তর মানে ভোটার তালিকায় আপনার নাম এক উপজেলা/থানা থেকে অন্য উপজেলা/থানায় স্থানান্তর করা। এটি ঠিকানা সংশোধনের থেকে আলাদা—শুধু বাড়ির নম্বর বা বানান ভুল হলে তা অনলাইনে সংশোধন করা যায়, কিন্তু ভোটার এলাকা পরিবর্তনের জন্য অফলাইন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। বর্তমানে (২০২৫) এটি সম্পূর্ণ অফলাইন এবং ফ্রি (কোনো ফি লাগে না)।এই আর্টিকেলে ধাপে ধাপে বিস্তারিত জানাব কীভাবে ভোটার এলাকা স্থানান্তর করবেন, কী কী দলিল লাগবে এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস। তথ্যগুলো বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন অনুসারে।
ভোটার এলাকা স্থানান্তর কেন দরকার?
- নতুন এলাকায় ভোট দেওয়ার অধিকার পাবেন।
- স্থানীয় সরকারি সুবিধা (যেমন ভাতা, প্রকল্প) সহজে পাবেন।
- এনআইডি কার্ডের ঠিকানা বাস্তবসম্মত রাখা যায়।
- চাকরি বা ব্যবসার জন্য ঠিকানা প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগে।
প্রয়োজনীয় দলিলাদি
ভোটার এলাকা স্থানান্তরের জন্য নিম্নলিখিত দলিলগুলো প্রস্তুত রাখুন (সব সত্যায়িত কপি):
- আপনার বর্তমান এনআইডি কার্ডের ফটোকপি।
- নতুন এলাকার নাগরিকত্ব সনদপত্র (ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা থেকে)।
- নতুন এলাকার চেয়ারম্যান/কাউন্সিলর/মেয়রের প্রত্যয়নপত্র (ছবিযুক্ত হলে ভালো)।
- ঠিকানা প্রমাণ: বিদ্যুৎ/গ্যাস/পানি বিল, কর আদায় রশিদ, বাড়ি ভাড়ার চুক্তিপত্র ইত্যাদির কপি।
- ফরম-১৩ এর পিছনে নতুন এলাকার জনপ্রতিনিধির (মেম্বার/কাউন্সিলর) এনআইডি নম্বরসহ স্বাক্ষর ও সিল।
- পরিবারের অন্য সদস্যের এনআইডি কপি (যদি নতুন এলাকায় তারা ভোটার হন)।
ধাপে ধাপে স্থানান্তর প্রক্রিয়া
১. ফরম-১৩ সংগ্রহ করুন নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট বা নিকটস্থ উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিস থেকে ফরম-১৩ ডাউনলোড বা সংগ্রহ করুন। এটি ভোটার স্থানান্তরের অফিসিয়াল ফরম।
২. ফরম পূরণ করুন
- পুরনো ও নতুন ঠিকানা সঠিকভাবে লিখুন।
- ব্যক্তিগত তথ্য (নাম, এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ) যাচাই করুন।
- ফরমের পিছনে নতুন এলাকার জনপ্রতিনিধির স্বাক্ষর নিন।
৩. দলিলাদি সংযুক্ত করে জমা দিন
- নতুন ভোটার এলাকার উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে আবেদন জমা দিন।
- অফিস কর্মকর্তা যাচাই করে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র দেবেন।
৪. প্রক্রিয়াকরণ ও অনুমোদন
- সাধারণত ১৫-৩০ দিনের মধ্যে স্থানান্তর অনুমোদন হয়।
- অনুমোদিত হলে নতুন এলাকার ভোটার তালিকায় নাম যোগ হবে।
৫. নতুন কার্ড পেতে (ঐচ্ছিক)
- স্থানান্তর হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন কার্ড দেওয়া হয় না।
- নতুন ঠিকানাসহ কার্ড চাইলে services.nidw.gov.bd থেকে অনলাইনে রি-ইস্যু আবেদন করুন (ফি প্রায় ২৩০ টাকা)।
গুরুত্বপূর্ণ টিপস ও সতর্কতা
- প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ফ্রি, কোনো দালালের কাছে যাবেন না।
- নির্বাচনের সময় (ভোটার তালিকা আপডেটের সময়) প্রক্রিয়া দ্রুত হয়।
- অনলাইনে শুধু বর্তমান ঠিকানার বিস্তারিত তথ্য (হোল্ডিং নম্বর ইত্যাদি) সংশোধন করা যায়, ভোটার এলাকা নয়।
- সমস্যা হলে হেল্পলাইন ১০৫ নম্বরে কল করুন বা নিকটস্থ নির্বাচন অফিসে যান।
- সর্বশেষ তথ্যের জন্য services.nidw.gov.bd বা ecs.gov.bd চেক করুন, কারণ নিয়মে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।
ভোটার এলাকা স্থানান্তর করে রাখলে জীবনের অনেক কাজ সহজ হয়ে যায়। দেরি না করে প্রয়োজনে আজই শুরু করুন! কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানান।
